আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? What is AI 1

Artificial Intelligence আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স

তথ্যপ্রযুক্তির জামানায় আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধি (এআই) অন্যতম

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স যাকে স্মার্ট সহায়ক হিসেবে বলা হয়।

শারীরিক অস্তিত্বহীন এই অ্যাসিস্ট্যান্ট শুধু গ্রাহকের কমান্ড মেনে কাজই করে না, আগে থেকে বলে রাখা হুইপ যথাসময়ে সঠিকভাবে করে রাখে। আবার সেই কাজ সুসম্পন্ন হয়ে গেলে অতীতের করে আসা কাজ সম্পর্কিত কিছু করতে হবে না, কি না তাও প্রভুকে জিজ্ঞাসা করে নেয়। অর্থাৎ, গ্রাহকের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স।

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইতিহাস:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পথচলা শুরু ১৯৪০ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই সময় ব্রিটিশ গণিতবিদ অ্যালান টুরিং এবং নিউরোলজিস্ট গ্রে ওয়াল্টার বুদ্ধিমান মেশিন এবং তার বিভিন্ন সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা দেন।

আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স কি:

প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে মেশিনকে বুদ্ধিমান করে তোলাই হলো আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম মেধা। এটি হলো এক ধরনের সফটওয়্যার টেকনোলজি, যা রোবট বা কম্পিউটারকে মানুষের মতো কাজ করায় এবং ভাবায়।

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স সুবিধা সমূহ:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সুবিধা লিখে শেষ করা মত নয়। কারণ এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের অনেক কাজ খুব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মিডিয়া, ব্যবসা, চিকিৎসা, বিনোদনসহ সব কিছুতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেশি।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন সারা পৃথিবী চলছে। তবে বাংলাদেশে এই প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার শুরু হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে হয়েছে সেদিকগুলো নিয়ে আলোচনা নিম্নে করা হলো।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স

বাংলাদেশে বসে আমরা ফেসবুক, ট্যুইটার, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে থাকি। আমাদের অ্যাকাউন্টে বা টাইমলাইনে খুব কম বিদেশি বন্ধুদের তালিকা বা পণ্য আসে। আবার আমাদের বন্ধু তালিকা থেকে কেউ কোন কিছুতে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করলে সেটি দ্রুত গতিতে নিজেদের হোমে চলে আসে। এ সবকিছুই হচ্ছে কৃত্রিম বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স মেধার দৌলতে। আমাদের পছন্দ-অপছন্দ, চাহিদা, মেলামেশা ইত্যাদি বুঝে ‘কাস্টমাইজড’ (ব্যক্তি বিশেষের জন্য নির্দিষ্ট) আপডেট পাঠাতে থাকে এআই প্রযুক্তি।

বর্তমানে আমরা নানা প্রয়োজনে বিভিন্ন মিডিয়া ও অ্যাপ্লিকেশনের সাহায্য নিয়ে থাকি। গান বা নতুন কোন ভিডিও দেখার ইচ্ছে হলে আমরা ইউটিউবে চলে যাই। সেখানে গিয়ে পছন্দ অনুসারে সার্চ করতে থাকি, তখন আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স আমাদের চাহিদা অনুসারে সেসব ভিডিও সামনে নিয়ে আসে।

নতুন শহরে গিয়ে সাবাই প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে চলে। আর প্রযুক্তির সাহায্যে যে ম্যাপ দেখানো হয় সেটি পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। যখন গুগল, অ্যাপেল বা অন্য সংস্থার ম্যাপ ব্যবহার করে আমরা ক্যাব বুকিং করি, তখন এআই বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে রাস্তার সেই সময়ের যানজট বা ভাড়া সম্পর্কে আমাদের জানায়। এছাড়া ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিশাল পরিবর্তন এনে দিয়েছে এই নতুন প্রযুক্তি। এটির মাধ্যমে টাকা গ্রহণ ও প্রদানের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ভাবে সব কিছু জানা জায়।

এই মুহূর্তে সবথেকে বেশি কৃত্রিম মেধা ব্যবহার হচ্ছে এক্ষেত্রে। ড্রোন তো ছেড়েই দেওয়া যাক। নজরদারির কাজে বিভিন্ন পয়েন্টে লাগানো হাজার হাজার ক্যামেরা থেকে লক্ষ লক্ষ তথ্য একটা নির্দিষ্ট সময়ে বিশ্লেষণ করা এআই ছাড়া মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

একঝাঁক পণ্য বা পরিষেবার মধ্যে থেকে বেছে বেছে গ্রাহকের সামনে তুলে ধরা। আমাদের পছন্দ-অপছন্দ, চাহিদা, মেলামেশা ইত্যাদি বুঝে ‘কাস্টমাইজড’ (ব্যক্তি বিশেষের জন্য নির্দিষ্ট) আপডেট পাঠাতে থাকে এআই প্রযুক্তি। কোন ব্যক্তি সাধারণ কোন সমস্যা নিয়ে হসপিটালে আসলে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা করা সম্ভব। তারপর পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে একধরনের প্রেসক্রিপশন করে দিতেও পারে এই নয়া প্রযুক্তি।

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স

এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরো নতুন নতুন অনেক কাজ সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। ফলে এই প্রযুক্তির অর্থনৈতিক সম্ভবনা অনেক বেশি। সঠিকভাবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা আর্জনের অন্যতম পথ হতে পারে। কারণ সাধারণ মানুষের মাধ্যমে যেসব কাজ করা সম্ভব হয়, তার সবগুলো এই প্রযুক্তির মাধ্যমে করা যেতে পারে। এতে হবে কি মানুষের চেয়ে প্রযুক্তি বা যন্ত্র বেশি কাজ করতে পারে ফলে অল্প সময়ে অনেক বেশি উৎপাদন বা সেবা তৈরী হলে অর্থনৈতিকভাবেও বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব।

 

Read More click on- World Cup Cricket-2023

এই প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার বাংলাদেশের কোন সেক্টরে এখনো হয়নি। ফলে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির সম্ভবনা ব্যাপক। যেমন আমাদের দেশে স্মার্ট হোম সেবা, বিজনেজ ম্যানেজমেন্ট ও ভ্রমণের গাইড হিসেবে কোন প্রতিষ্ঠান সেবা দেয়না। আবার বিভিন্ন স্কুল, কলেজের ভর্তি পক্রিয়ায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার নেই। এমন নানা সেক্টর আছে যেগুলোয় সেবা দিতে শুরু করলে ভালো কিছু হওয়ার সম্ভবনা বেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *