ইভিএম মেশিন, যেভাবে কাজ করে BD 2023

ইভিএম মেশিন

(ইভিএম মেশিন) পৃথিবীতে বর্তমানে ২শ টির বেশি স্বাধীন রাষ্ট্র রয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী একটি পদ্ধতি বা ব্যবস্থা হলো গণতন্ত্র। এটির চর্চা ও ক্রমবিকাশ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। তবে গণতান্ত্রিক চর্চার অন্যতম একটি ব্যাপার হলো প্রতিনিধি নির্বাচন। ক্ষমতা পাওয়াকে কেন্দ্র করে এই প্রতিনিধি নির্বাচনে নানা ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ উঠে। তবে সব বিতর্ক অবসানের জন্য প্রযুক্তির এই যুগে মানুষের মতামত গ্রহণের একটি যন্ত্র আবিষ্কার হয়েছে। যার নাম হলো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)।ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)।

ইভিএম মেশিন কি:

ভোট প্রয়োগে মেশিন বা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি অণুসৃত হয়, বিধায় সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম নামে পরিচিত। এর অন্য নাম ই-ভোটিং। যে যন্ত্রে কোন কাগজ-কলমের ঝামেলা ছাড়া ভোট প্রদান করা যায়। ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় এটি একাধারে সঠিকভাবে ভোট প্রয়োগ ও দ্রুততার সাথে ভোট গণনা করতে সক্ষম। একই সাথে কয়েক বছরের ডাটাবেজ সংরক্ষণ করতেও সক্ষম এই মেশিন।

ইভিএম মেশিন

ইভিএম মেশিনের ব্যবহার:

পাঞ্চ কার্ডের মাধ্যমে ভোট প্রদানের রূপরেখা প্রথম ১৯৬০-এর দশকে আবিষ্কার হয়। এরপর ইলেকট্রনিক ভোটিং পদ্ধতি প্রয়োগে নির্বাচন পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১৯৬৪ সালে সর্বপ্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৭টি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে এই পদ্ধতি অণুসৃত হতে দেখা যায়। বর্তমানে বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশ এই পদ্ধতিতে নিজেদের নির্বাচন সম্পন্ন করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি প্রমুখ।

ইভিএম ব্যবহারের উপকারিতা:

১. ইভিএম ব্যবহারের ফলে কোটি কোটি সংখ্যক ব্যালট ছাপানোর খরচ, কাগজের খরচ, এগুলো পরিবহনের খরচ, ভোট গণনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকবলের খরচ সবই সাশ্রয় হবে।

২. এই মেশিনে কোনো ভোটারের ভোট বাতিল হবে না। ভোটের তথ্য মেশিনে প্রায় ১০ বছর ধরে অবিকৃত অবস্থায় থাকবে। ফলে যে কোন সময় নির্বাচনের অসচ্ছতার প্রশ্ন উঠলে তথ্য দিয়ে সেটি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

৩. এই মেশিনে খুব বেশি বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় না। ব্যাটারি দিয়েও মেশিন চালানো যায়। ফলে ইভিএম ব্যবহারকালে ইলেকট্রিক শক খাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

৪. একটি মেশিন দিয়ে কয়েকটি নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব। যেমন ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন বা উপ নির্বাচনেও কাজে লাগানো যাবে।

৫. খুবই কম সময়ে সচ্ছতার সাথে ভোট গণনার কাজ সম্পন্ন হয়। ফলে এ নিয়ে কেউ আপত্তি তুললে পরিসংখ্যান তুলে ধরা সম্ভব হবে।

 

বাংলাদেশে ইভিএম মেশিনের ব্যবহার:

বাংলাদেশে ২০০৭ সালে সর্বপ্রথম ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের কার্যকরী সংসদ নির্বাচনে সনাতনী ধাঁচের পরিবর্তে ই-  ভোটিং পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। ইতোমধ্যেই আংশিক ও পরীক্ষামূলকভাবে ২টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এর প্রয়োগ হয়েছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সিটি কর্পোরেশনের ১৪টি কেন্দ্রে ও সদ্য গঠিত নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশনের ৫৮টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ৫ জানুয়ারি, ২০১২ সালে কুমিল্লার সিটি কর্পোরেশনের সবগুলো কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০১৮) এ ছয়টি আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হয়।

বর্তমানে আমরা আধুনিক যগে বসবাস করছি। এমন সময়ে যে কোন সনাতনী পদ্ধতি সকলের কাছে একটু বিরক্তিকর। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে যে কোন পদ্ধতির সচ্ছতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে এমন সময়ে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারে অন্যতম জায়গা হলো নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান। যেটি ইভিএম নাম মেশিন বেশ সচ্ছতার সাথে মতামত গ্রহণ ও সংরক্ষণে সক্ষম। তাই এই মেশিনের সাহায্যে আয়োজিত নির্বাচনে মানুষের আস্থা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে নির্বাচনের বিপরীদ দল কোন ধরনের জালিয়াতি বা প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে পৃথিবীর অনেক দেশ নিজেদের গণতন্ত্র চর্চায় আরো বেশি উন্নতির শিখরে পৌঁছে যাচ্ছে।

ইভিএম মেশিন

তবে বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে সব সময় ভোট বা নির্বাচন নিয়ে বির্তক থাকে। সেটির জন্য নতুন এই ইভিএম মেশিন নিয়ে দেশে জুগে এক ধরনের বিতর্ক চলমান রয়েছে। তাছাড়া ইভিএম নিয়ে বিতর্ক হওয়ান মতো কিছু ঘটনাও দেশের বিভিন্ন এলাকার নির্বাচনে ঘটেছে। অন্যদিকে দেশের এখনো বেশির ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। তারা জানে না কীভাবে মেশিশ ব্যবহার করে ভোট প্রদান করতে হয়।ফলে এই মেশিন পরিচলানার জন্য দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হয় সেটির যেমন সংকট তেমনি ভোটের মতো গোপন ব্যাপারে অন্য মানুষ যদি মেশিন পরিচালনার জন্য থাকতে হয় সেটিও হুমকির মতো। ফলে আমাদের আরো বেশি শিক্ষার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে তারপর বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে দেশজুড়ে সুফল নেমে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *