তামিম ইকবাল, বাংলাদেশ ক্রিকেটের সিংহ Best No 1

তামিম ইকবাল বাংলাদেশ ক্রিকেটের

তামিম ইকবালের জন্ম কর্ম ও কৃতিত্ব।

প্রাথমিক ও ব্যক্তিগত জীবন

তামিম ইকবাল চট্টগ্রামের সম্ভ্রান্ত খান পরিবারে ২০ মার্চ ১৯৮৯ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ইকবাল খান, যিনি একজন ফুটবলার এবং ক্রিকেটার ছিলেন। মাতার নাম নুসরাত ইকবাল।
তামিম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেন চট্টগ্রামের সানশাইন গ্রামার স্কুলে,যেখানে ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করা হয়। ক্রিকেটার আকরাম খান তার চাচা এবং বড় ভাই নাফিস ইকবাল। এসব জেনে মনে হয় তামিম উত্তরাধীকার সূত্রে ক্রিকেট পেয়েছেন।তামিমের একটি বোন আছে। এছাড়া তামিমের স্ত্রীর নাম আয়েশা সিদ্দিকা। একটি ছেলে ও একটি মেয়ে আছে।

তামিম ইকবাল বাংলাদেশ ক্রিকেট
ক্রিকেট জীবন ও রেকর্ড এবং কৃতিত্ব

তামিম ইকবালের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে ২০০৭ সালে এবং এই বছরে তার জীবনের প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলেন। ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় ক্রিকেট দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ হাজার রান তামিম ই প্রথম করেছেন। ২০১৮ সালের সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করা প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার।

 

অন্যদিকে রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে জয়াসুরিয়ার করা রানের রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ রানের করেন। ২০১১ সালে তামিম ইকবাল উইজেন ক্রিকেটার্স অ্যালামন্যাক এ ২য় বাংলাদেশী হিসেবে বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার নির্বাচিত হন। তিনি চট্টগ্রাম বিভাগ ক্রিকেট দল এর হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে থাকেন। তামিম ইকবালই একক বাংলাদেশী হিসেবে কম ওভারের সংস্করণে সর্বোচ্চ রানের মালিক এবং একমাত্র বাংলাদেশী হিসেবে ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই সেঞ্চুরির অধিকারী।

 

এছাড়াও তামিম ইকবাল একমাত্র বাংলাদেশী হিসেবে ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে ২০টি সেঞ্চুরির অধিকারী। তামিমের আরেক কৃতিত্ব হচ্ছে, তিনি টেস্ট, ওডিআই ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে সর্বোচ্চ রানের অধিকারী। অন্যদিকে ২য় বাংলাদেশী হিসেবে টেস্টে ৩০০০ রান ও ওয়ানডেতে ৫০০০ রানের রেকর্ডধারী এবং ১ম বাংলাদেশী হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ১০০০ রানের মাইলফলক অতিক্রম করেন। জুলাই ২০২২ সালে তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার ঘোষণা দেন।

তামিম ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে উইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১২০০০ রানের রেকর্ড করেন। ভারত, শ্রীলঙ্কা নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত তিন দেশের সিরিজের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রশিক্ষক জেমি সিডন্স মন্তব্য করেছিলেন যে, “তামিম ইকবালের আন্তর্জাতিকমানের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হবার যোগ্যতা আছে”। একই বছরের জানুয়ারিতে তামিমও জুনায়েদ সিদ্দিকী ভারতের বিপক্ষে ১৫১ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন।

তামিম ইকবাল

অন্যদিকে ১৩ মার্চ ২০১০ ইংল্যান্ডের বিপক্ষের সিরিজে প্রথম টেস্টে ৮৬ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলে তামিম ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। আগে শুধুমাত্র শচীন টেন্ডুলকার এবং মোহাম্মদ আশরাফুল তারচেয়েও কম বয়সে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পেরেছিলেন।



২০২০ সালের মার্চে মাশরাফি বিন মর্তুজা একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক পদ থেকে অবসরে গেলে নেতৃত্বে আসেন তামিম ইকবাল। দায়িত্ব পাওয়ার আগেও শ্রীলঙ্কা সফরেও ওডিআই দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।আবর ২০২২ সালের জুলাই মাসে তিনি নিজের ফেসবুক পেজ থেকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর গ্রহণের ঘোষণা দেন। সাকিব আল হাসানের পরে দ্বিতীয় বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৪,০০০ রান সংগ্রহ করেন।

আয় ও সম্পদ

তামিম ইকবাল পূর্বে বিসিবি থেকে মাসিক প্রায় ৪ লক্ষ টাকা পেতেন। এখন বিসিবি থেকে প্রায় ৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা বেতন পান। এছাড়া ম্যাচ প্রতি ৩০ হাজার টাকা থেকে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত ম্যাচ ফি পান। টেস্ট খেলার জন্য ম্যাচ প্রতি প্রায় ২ লক্ষ টাকা পান,ওয়ানডের জন্য এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা পান। এছাড়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত পান।


অন্যদিকে তিনি বিভিন্ন লীগ, বিজ্ঞাপনে, এ্যম্বাসেডর হিসাবে কাজ করে প্রচুর টাকা উপার্জন করেন।চট্টগ্রাম ও ঢাকায় আলাদা বিলাসবহুল বাড়ি ও প্রায় পাঁচ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি আছে। তিনটি ব্যক্তিগত উন্নত গাড়ী আছে। তার বর্তমান মোট সম্পদের মূল্য পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি টাকা।

তামিম ইকবাল বাংলাদেশ ক্রিকেটের
(Photo by Gareth Copley/Getty Images)


অবসরের সিদ্ধান্ত ও প্রত্যাহার

এই মাসের ৬ তারিখে তিনি সমস্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন।পরের দিন বিসিবির সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাশরাফির সাথে একটি বৈঠক করেন। সেখান থেকে বের হয়ে আবার ও মাঠে ফিরবেন বলে সাংবাদিকদের জানান। এছাড়া আরো বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দেড় মাস ছুটি দিয়েছেন যাতে করে ফিটনেস এবং নিজের মানসিক অবস্থার উন্নতি করতে পারি।সর্বোপরি তামিম ঢাকায় এবং চট্টগ্রামে অসহায় দরিদ্র মানুষের জন্য সহযোগিতামুলক অনেক কাজ করেন। আমরা চাই তিনি সমাজের জন্য আরে ভালো কাজ করে সমাজ উন্নয়নে অংশীদার হোক।

তামিম ইকবাল ছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট ….এখন পর্যন্ত অকল্পনীয় । তামিম ফিরে আসুক , তামিমের বাটের ঝর মুখর পরিবেশ হয়ে উঠুক ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *