মেক্সিকান রেস্টুরেন্ট ও খাবার (mexican restaurants ) Best 3 Bangla

chilli g28b1b9914 1280

mexican restaurants/মেক্সিকান রেস্টুরেন্ট

ভোজনরসিক লোকজনের কথা,আড্ডা বা গল্প যা ই হোক না কেন সবখানেই খাবারের বিষয় জড়িয়ে থাকে। কখনো বা বাংলা খাবার আবার পছন্দের তালিকায় চলে আসে থাই ফুড চাইনিজ ফুড আবার ইন্ডিয়ান খাবার আবার চলে আসে মেক্সিকান খাবারের বিষয়টি।আমরা আজ আপনাদের জানাবো মেক্সিকান খাবারের কিছু জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টের কথা। রাজধানী ঢাকায় গত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করলে দেখা যায় মেক্সিকান রেস্টুরেন্টের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। মেক্সিকান খাবারের বিশেষত্ব হচ্ছে স্বাদ ও ঝাল সাথে মসলার ব্যবহারের জন্য আমাদের স্থানীয় খাবারের সাথে মেক্সিকান খাবারের অনেক মিল রয়েছে।

 

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের উল্লেখযোগ্য  মেক্সিকান রেস্টুরেন্ট  এবং খাবার সমূহ :

এল তোরো, তাকিয়েরা লোলা এবং তালতিবাজ । রেস্টুরেন্ট তিনটি রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত। মেক্সিকান রেস্টুরেন্ট ও খাবার গুলোর মধ্যে এল তোরো সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন মেক্সিকান রেস্টুরেন্ট এল তোরো। আরো মেক্সিকান রেস্টুরেন্ট তালিকা দেখলে আমরা পাবো তাকিয়েরা লোলা ও তালতিবাজির নাম। এবার আমরা ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করে জেনে নেই আজকের আয়োজন।

মেক্সিকান রেস্টুরেন্ট Mexican restaurants

এল তোরো রেস্টুরেন্ট

বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো মেক্সিকান রেস্টুরেন্টের কথা জানতে গেলে আমাদের কাছে নাম আসে এল তোরো। আনুমানিক ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করার পর এখন পর্যন্ত তিনবার এই রেস্টুরেন্টের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। প্রায় ৩০ বছর সময় ধরে সাফল্যের সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এল তোরো রেস্টুরেন্টটির বর্তমান অবস্থান গুলশান-২ এর য়েস্টিন হোটেলের পেছনে।এল তোরো রেস্টুরেন্টের খাবারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় খাবার ট্যাম্পিকো চিকেন ট্যাকো। এই খাবার কয়েক লেয়ারের ময়দা দিয়ে তৈরি ট্যাকো শেলের মধ্যে আস্ত মুরগি, টমেটো, লেটুস পাতা এবং একটি মশলাদার ট্যাকো সস দিয়ে এ খাবারটি তৈরি ও পরিবেশন করা হয়।

 

এল তোরো মেক্সিকান রেস্টুরেন্টের চমৎকার সুস্বাদু খাবার হচ্ছে গরুর মাংসের নাচোস। টমেটো, মরিচ, সবুজ পেঁয়াজ এবং ক্রিমপূর্ণ টর্টিলা চিপসের সাথে পরিবেশন করা খাবারটি অত্যন্ত সুস্বাদের জন্য অনেকের কাছে বেশ পছন্দের খাবার। সেই সাথে অতিরিক্ত টর্টিলা চিপস স্বাদের মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। এল তোরো রেস্টুরেন্টের আরেক চমক হচ্ছে চঙ্কি চিকেন কোয়েসাদিলা। এই খাবার তৈরি করা হয় ময়দা দিয়ে তৈরি টর্টিলার ভেতরে গলিত চেডার পনিরের সাথে হালকাভাবে মাখন, রসুন এবং জিভে পানি আনা ক্রিম সসের মাধ্যমে খাবারটি তৈরি করে পরিবেশন করা হয়। এই রেস্টুরেন্টের পানীয়ের মধ্যে এখানকার জনপ্রিয় হচ্ছে পিনা কোলাডা নামের মকটেল। তবে পানীয়টি পানের পর আপনার মধ্যে তন্দ্রাভাব আসবে একটু।

 

এছাড়া, মুহূর্তের মধ্যে আপনাকে সতেজ করার জন্য আছে অ্যাপেল আইসড চা। এল তোরো রেস্টুরেন্টে খাবারের মূল্যমান ২২০টাকা থেকে শুরু করে ১,০৫০ টাকা।আর এদের মধ্যে আপনি নিজের পছন্দমতো খাবার বেছে নিয়ে অর্ডার করতে পারবেন। ২০১৬ সালের হোলি আর্টিসান হামলা কারণে ও ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময়ে রেস্টুরেন্টটি বাণিজ্যিকভাবে খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

অর্থনৈতিক খারাপ অবস্থার কথা জানিয়ে রেস্টুরেন্টটির ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ দুলাল জানান, এমনও দিন আছে যখন আমাকে একসাথে শেফ, ম্যানেজার এবং ওয়েটার- তিনটি দায়িত্বই একা পালন করতে হয়েছে।

 

মেক্সিকান রেস্টুরেন্ট Mexican restaurants
তাকিয়েরা লোলা রেস্টুরেন্ট 

তাকিয়েরা লোলা রেস্টুরেন্টটি বয়স খুব কম এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার গুলশান এভনিউয়ে শুরু হয় এই মেক্সিকান খাবারের রেস্টুরেন্টে। তাকিয়েরা লোলা রেস্টুরেন্টটি উচ্চ মানের আধুনিক ইন্টেরিয়র ডিজাইনে সজ্জিত যা খুব আর্কষণীয়।এখানে রঙিন ফ্লোরাল ওয়ালপেপার এবং মেঝেতে সাজানো জ্যামিতিক প্যাটার্নটি মেক্সিকান সংস্কৃতি এবং খাবারের বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্ব করছে। এই রেস্টুরেন্টের সবগুলো খাবার আইটেমই একটি ট্রেতে পরিবেশন করা হয়, চমকপ্রদ এবং অত্যাধুনিক রেস্তোরাঁয় বসার পরেও যা আপনি পাবেন স্ট্রিট ফুড খাওয়ার অনুভূতি ।

 

এই মেক্সিকান রেস্টুরেন্টের খাবারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে বিফ বার্বাকোয়া। মূলত এটি কিছু রসালো চিপটল ব্রেইজড গরুর মাংস, ধনেপাতা এবং কাঁচা মরিচের সংমিশ্রণে তৈরি একটি পদ, যা একটি ময়দার আটাকে টর্টিলার ভিতরে চুন দিয়ে তৈরি করে পরিবেশন করা হয়।

 

তাকিয়েরা লোলাতে গরম গলিত পনির থেকে তৈরি কোয়েসো ফান্ডিডো এখানকার অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার। বাহারি উপকরণ দিয়ে পরিবেশিত ভিন্ন স্বাদের এই খাবার আপনার রুচি এবং তৃপ্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। অন্যান্য পানীয়ের মধ্যে হিবিস্কাস ফুল, দারুচিনি, কমলা, বরফ এবং সাধারণ সিরাপ দিয়ে তৈরি হিবিস্কাস এলিক্সির নামের বিদেশি পানীয়টি আপনার মন খারাপের কারণ হতে পারে।

 

তবে আনারস এক্সপ্রেস নামের মশলাদার পানীয়টি আপনার মন কেড়ে নিবে।
তাকিয়েরা লোলাতে ১৮০টাকা থেকে ৩৯৫ টাকার মধ্যে আপনি নিজের পছন্দমতো খাবার অর্ডার করতে পারবেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যগুলো এখনও তাদের সাধ্যের মধ্যে রয়েছে বলেই তাদের বিভিন্ন খাবারের দাম এখনও সর্বস্তরের মানুষের আয়ত্তের মধ্যে। সম্প্রতি ফুডপান্ডার মাধ্যমে তাদের খাবার গুলো হোম ডেলিভারি সেবা দেওয়া শুরু করেছে।

মেক্সিকান রেস্টুরেন্ট Mexican restaurants

তালতিবাজ রেস্টুরেন্ট

তালতিবাজ বাংলাদেশের এমন একটি রেস্টুরেন্ট যা একবারে মিশ্র প্রকৃতির বলা যায়। যা অনবদ্য স্বাদের খাবারে এক সাথে বাংলাদেশি এবং মেক্সিকান অনুভূতি মিশ্রিত।তালতিবাজ ও ঢাকার গুলশানে অবস্থিত জনপ্রিয় কৌতুক শিল্পী নাভিদের কমেডি ক্লাবের পাশেই প্রায় তিন মাস আগে রেস্টুরেন্টটি যাত্রা শুরু করে।এই রেস্টুরেন্টে খাবার এবং স্বাদ ছাড়াও তারা নতুনত্ব নিয়ে আসার চেষ্টা করছে প্রতিনিয়ত। একজন শেফ তাসনিমা রেজা দিশা রেস্টুরেন্টটির ব্যতিক্রমী পরিবেশ প্রসঙ্গে বলেন, অনেক রেস্টুরেন্টই নিজেদের লাইভ কিচেন বলে দাবি করে।

 

কিন্তু কতজন লোক আপনাকে পুরো প্রক্রিয়াটি দেখতে দেয়? এখানে আপনি সবকিছু দেখতে পারবেন। এটা একটা বিশেষত্ব তালতিবাজ রেস্টুরেন্টের। বাংলাদেশি এবং মেক্সিকান স্বাদের পছন্দের সমন্বয়ে তালতিবাজ রেস্টুরেন্টটির মেনু সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় বাজা ভেটকি টাকো, স্পাইসি শ্রিম্প ট্যাকো, চিকেন ঝাল ফ্রাই টাকো এবং চিকেন আল পাস্তোর উল্লেখযোগ্য।

 

স্পাইসি শ্রিম্প ট্যাকোতে গ্রিল করা চিংড়ি, বাঁধাকপি, মধু রসুন আইওলি, সালসা এবং ফ্রেসকা এর পুরোপুরি রেসিপি তৈরি করা টুকরো থাকে। প্রথমে টুকরোগুলোকে তুলতে গিয়ে শক্ত মনে হলেও একবার ধরলে সেগুলো সহজেই তুলে ফেলা সম্ভব।
তালতিবাজ রেস্টুরেন্টে ১০০ টাকা থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে খাবারের দাম শুরু হয়ে থাকে। মুদ্রাস্ফীতির কারণে তাদের খাবারের দাম বাড়ার বড় একটা সম্ভাবনা আছে। বর্তমানে পাঠাও এবং ফুডপান্ডার মতো অনেক সেবার মাধ্যমে তার খাবার বাসা বাড়িতে সরবরাহ করে থাকে।

 

নতুন রেস্টুরেন্টে হিসেবে তারা ইতোমধ্যেই অনেকের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়েছে এবং আলোচনায় এসেছে।

 

আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এই তিন রেস্টুরেন্টের মধ্যে সেরা কোনটা?

মেক্সিকান খাবারের রেস্টুরেন্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সেরা অভিজ্ঞতা হয়েছে তালতিবাজ রেস্টুরেন্টে। বিচারের মানদন্ড হলো খাবারের মান, জনপ্রিয়তা, সাশ্রয়ী দাম এবং কর্মীদের বন্ধুত্বপূর্ণ এবং বিনয়ী ব্যবহার। এসব কারণে যে কেউ ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মুগ্ধ হবে।

আর্থিক লাভ কম হওয়ার কারণে এল তোরোর খাবারের দামের পাশাপাশি এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায়ও খারাপ প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে, আমদানিকৃত কর্ন টর্টিলাসের কারণে দাম অনুযায়ী তাকিয়েরা লোলার খাবারের মান খুবই ভালো পেয়েছি। সেই সাথে পাবেন মেক্সিকান ধারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *